পটুয়াখালীর বাউফলে এক কৃষকের ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি করে জবাই দিয়ে চামড়া ও ভুঁড়ি পুতে রেখে মাংস নিয়ে গেছেন চোর চক্র।
ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার বাড়ির পাশে জঙ্গলে গরু জবাই দেওয়া রক্তের দাগ ও পাশের খালে বস্তা ভরে পুতে রাখা গরুর চামড়া-ভুঁড়ি পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় একই বাড়ির শত্রুরা পূর্ব বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ৪জনকে আসামী করে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গরুর মালিক সালাম শরীফ।
গত শনিবার রাতে (২৬ অক্টোবর) উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে এ গরু চুরির ঘটনা ঘটে। থানায় অভিযোগ সূত্র ও গরুর মালিক সালাম শরীফ জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যার দিকে গোয়াল ঘরে গরু বেধে রাখা হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখেন গরু নেই। পরে তারা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। ঘটনার ৩দিন পর বাড়ির পাশের জঙ্গলে রক্ত, রশি ও অদূরে খালের মধ্যে বস্তায় ভরা চামড়া- ভুঁড়ি দেখে চুরি হওয়া গরু চিহিৃত করেন।
সালাম শরীফ বলেন, প্রায় এক মাস আগে তার সাথে একই বাড়ির জসিম শরীফের ছেলে হাসান শরীফের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। তখন হাসান শরীফ গোয়াল ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হুমকি দেয়।
এর আগেও একাধিক বার গোয়াল ঘর সরিয়ে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। গরুর মালিক সালাম শরীফ অভিযোগ করেন বলেন, গরু চুরির ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হাসান শরীফ লোকজন নিয়ে হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ জসিম শরীফ, তার স্ত্রী, দুই ছেলে হাসান ও হেমায়েতকে আসামী করা হয়। গরু চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম শরীফ ও তার ছেলে হাসান শরীফ। হাসান শরীফ বলেন,‘ এসব অভিযোগ মিথ্যা।
আমরা তাঁর গরু চুরির ঘটনার সাথে জড়িত না। ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কাওসার বলেন,‘ ঘটনা শোনার পর খোঁজখবর নিয়েছি।
যেটুক জানতে পেরেছি, তাতে মনে হচ্ছে- পূর্ব বিবোধের জেরে একই বাড়ির লোকজন এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।