ডেস্ক রিপোর্ট:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পান্ডব নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কাজে উৎকোচ দাবির অভিযোগে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের নীলগঞ্জ এলাকায় পান্ডব নদীর উপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের তত্ত্বাবধানে ৬৭৮ দশমিক ৪০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ময়নুদ্দিন (বশী) লিমিটেড ও মেসার্স হামিম ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে।
এ প্রকল্পের জন্য নীলগঞ্জ মৌজার জেল নং–৭৪ এর ৫০১, ৫০২, ৫০৪, ৫০৮, ৫১১ ও ৫১২ দাগ থেকে মোট ০.৯৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সোহরাব শিকদার অভিযোগ করে আসছেন যে, তার ৫১৫ দাগের জমিতে নির্মাণকাজের বালু ও মাটি ফেলা হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা (অর্থ ও প্রশাসন) একেএম আরিফুর রহমান জানান, অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান করে কাজ চালিয়ে যেতে তাকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও গত ৪ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ করে শ্রমিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালাগালি করেন এবং পুনরায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য ৬৫ ফুট জমি অধিগ্রহণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ৪০ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তার দাবি, তার জমির উপর বালু ও মাটি রাখা হয়েছে, অথচ সেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এজন্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসে এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি,
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাঁধাগ্রস্ত করার মিশনে আওয়ামী লীগের দোসর সোহরাব শিকদার।
গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি নির্মাণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।