ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বিরোধী দলের কিছু নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কার্যালয় পুনরায় খোলার অপচেষ্টা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ ধরনের কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যায় জড়িত দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে গেলেও জাতীয় নির্বাচনের পর তারা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত বহু মানুষ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজও শোক ও বেদনার ভার বহন করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে আইনের তোয়াক্কা না করে কার্যালয় পুনরায় চালুর উদ্যোগ জাতির আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান।
বাংলাদেশের কোটি কোটি ছাত্র-জনতা ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষ ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা এবং এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাদের প্রত্যাখ্যানের রায় দিয়েছেন। সেই গণরায়ের পরিপন্থি যেকোনো তৎপরতা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণকারী মোর্চা জুলাই ঐক্য সারা দেশে একটি সংগঠিত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। কোন কোন জেলায় রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় চালু হয়েছে, চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে, কিংবা চালু হওয়ার পর পুনরায় বন্ধ হয়েছে- সেই বিষয়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
দেশের যে কোনো সচেতন নাগরিক এখন থেকে https://julyoikyo.com/banned-league লিংকে প্রবেশ করে তথ্য প্রদান করতে পারবেন। তথ্য ফরমে কার্যালয়ের নাম, উপজেলা, জেলা, মহানগর, বিভাগ, কোন দলের সহযোগিতায় এবং কোন নেতার সহায়তায় কার্যালয়টি চালু করা হয়েছে- এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা যাবে।
জুলাই ঐক্য বিশ্বাস করে, আইনের শাসন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং জনগণের স্পষ্ট রায় রক্ষায় নাগরিক অংশগ্রহণই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ।