এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জোন ও থানার উদ্যোগেও ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে বের হওয়া মিছিলটি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে ‘ফ্যাসিবাদের’ পুনরুত্থানের সুযোগ নেই। জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ আছে। তাই ফ্যাসিবাদের যে কোনো ইঙ্গিত বা অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করা হবে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের উঁকি দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করতেই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করেছে। যারা জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর, সূর্যের আলো, স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন এবং মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন নানা কায়দায়
চুরি ও পাচার করা টাকা ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনা যে নির্বাচন কেড়ে নিয়ে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন, সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বেড়াজাল তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী দলকে দমন করতে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিএনপির বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আবার সেই গুমের রাজত্বে ফিরতে জনগণ সমর্থন দেবেন না। রিজভী দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে কোনো গুম, ক্রসফায়ার বা মিথ্যা মামলার ঘটনা ঘটেনি। তার মতে, শুধু অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, শান্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত চলছে। তবে এসব চেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, জনগণকে প্রতিদিন সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, বিভিন্ন মহল উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মাধ্যমে দেশ ও সার্বভৌমত্ববিরোধী পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষকে কেউ গোলাম বা কৃতদাসে পরিণত করতে পারবে না, দেশের জনগণ তা হতে দেবে না। সমাবেশে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আবদুর রহিমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
যুবদল : এদিন ঢাকা মহানগীর বিভিন্ন এলাকায় অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতি ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুবদলের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার প্রতিটি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি সারা দেশে পালিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির নামে যে কোনো ধরনের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড যুবদল রাজপথে বরদাশত করবে না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে যুবদলের নেতাকর্মীরা সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকবে। আগামী দিনে যে কোনো অপশক্তিকে রাজপথেই প্রতিহত করা হবে। এদিকে, যুবদল নেতা গোলাম মাওলা শাহিনের নেতৃত্বে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা।
স্বেচ্ছাসেবক দল: সতর্কতা ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের নেতৃত্বে দুপুরে ফার্মগেট, কাওরান বাজার এলাকায় মিছিল করেন শতাধিক নেতাকর্মী। স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদারের নেতৃত্বে শান্তিনগর বাজার থেকে আরেকটি মিছিল শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড়, আজাদ প্রডাক্টস, ফকিরাপুল মোড় প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
ছাত্রদল : আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পৃথকভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াতের বিক্ষোভ: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জোন ও থানার উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মঙ্গলবার ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সকালে যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার-হাজার মানুষ অংশ নেন। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী টনি টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ ফারুক সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো রাজপথে শক্ত ভূমিকা বজায় রাখবে। তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ৫ আগস্ট পরবর্তী বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু এদেশের জনগণের রক্তচোষা আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রুখে দিতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যতীত আওয়ামী লীগের জন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়।
মহানগরী উত্তর: ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়াতন্ত্রীদের যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান। তিনি মিরপুর, পল্লবী ও কাফরুল জোন জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভপরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজী পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহিদুল্লাহ, শাহ আলম তুহিন প্রমুখ।
মাহফুজুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল পতনের ২ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ ফ্যাসিস্ট দলের কোনো নেতাকর্মীর বিচারই দৃশ্যমান হয়নি। বরং একের পর এক মামলায় জামিন ও চিহ্নিত গডফাদারদের ছেড়ে দিয়ে দেশকে আবারও হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের দুর্বল ও তোষণনীতির কারণে আওয়ামী জোটের সাবেক মন্ত্রী সন্ত্রাসী হাসানুল হক ইনু আদালতে হুমকি দিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন। কিন্তু সচেতন জনতা তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না।