একসঙ্গে জন্ম নেওয়া সেই ৫ সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন লামিয়া-সোহেল দম্পতি। বর্তমানে বাচ্চাদের জন্য দুধ ও প্যাম্পাস ক্রয় করতে সপ্তাহে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এত টাকা খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ৫ সন্তানের বাবা-মা।
সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে মোটা অংকের ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি ক্লিনিকে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দেন বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠী গ্রামের সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী লামিয়া আক্তার। বিরল এ ঘটনায় তখন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও একসঙ্গে ৫ সন্তান সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ওই দম্পতি।
জন্মের পর থেকে ৭ মাস ধরে লালন পালন করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা। ৫ সন্তান জন্মদানের খবর পেয়ে ওই পরিবারের প্রতি অনেকে সহায়তার হাত বাড়ালেও তা যৎসামান্য। তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
৫ সন্তানের মা লামিয়া আক্তার বলেন, যেখানে এক সন্তান লালন পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ৫ সন্তানের বিষয়টি ভেবে দেখুন।
তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার টাকার দুধ ও প্যাম্পাস প্রয়োজন; কিন্তু এত খরচ কিভাবে সামাল দেব? তারপর মাথার ওপর ঋণের বোঝা আছে। ভবিষ্যতে ৫ সন্তানের পড়ালেখাসহ সার্বিক খরচ মেটাতে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
৫ সন্তানের পিতা সোহেল হাওলাদার বলেন, একাধিক ব্যক্তি আমাদের ২ সন্তান দত্তক নিতে চেয়েছেন; কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সন্তান দত্তক দিতে রাজি নই। কষ্ট হলেও আমরা ৫ সন্তানের প্রতি সমান ভালোবাসা দেখাতে চাই।
তিনি বলেন, ছোট্ট একটি মুদি দোকানের আয় দিয়ে ৫ সন্তানের ভরণ-পোষণ সম্ভব নয়। তাই সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা প্রয়োজন।
বাউফলের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ বলেন, ৫ সন্তানের ৭ মাস বয়স হয়েছে। এখন দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার প্রয়োজন। বাড়তি খাবার পর্যাপ্ত না পেলে পুষ্টিহীনতার শিকার হতে পারে ৫ শিশু।
এ প্রসঙ্গে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ৫ সন্তানের পরিবারের পাশে থাকার জন্য আমরা চেষ্টা করব। তবে সমাজের যারা সচ্ছল রয়েছেন তাদের যার যার অবস্থান থেকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।