যান্ত্রিকতার এই যুগে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য নজির দেখল ঠাকুরগাঁওবাসী। কুসংস্কার নয়, বরং পরম মমতায় শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ধুমধাম করে সম্পন্ন হলো একটি বট ও একটি পাকুড় গাছের বিয়ে।
৪০০ আমন্ত্রিত অতিথির ভূরিভোজ আর উলুধ্বনিতে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
বিয়ের প্যান্ডেল, মন্ত্রপাঠ আর উলুধ্বনি—আয়োজনে ছিল না কোনো কমতি। তবে এই বিয়ের পাত্র-পাত্রী কোনো মানুষ নয়, বরং একটি বট ও একটি পাকুড় গাছ।
শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় এই লোকজ ঐতিহ্যের সাক্ষী হলেন শত শত মানুষ।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, কনে ‘বট’ গাছের বাবার দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় পরিমল চন্দ্র এবং বর ‘পাকুড়’ গাছের পক্ষে ছিলেন বলরাম সরকার।
প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় বড়দের পরামর্শে এই আয়োজন। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ করা হয়।
পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ আর ধর্মীয় আচার শেষে ছিল এলাহি ভূরিভোজের ব্যবস্থা। আধুনিক সময়ে বৃক্ষনিধনের মহোৎসবের বিপরীতে, প্রকৃতির প্রতি মানুষের এই সযত্ন মমত্ববোধ নজর কেড়েছে সবার।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের এক অনন্য স্মারক।