পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ, তার বড় ভাই ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ এবং পরিবারের দুই নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ নিজ নামে ৬ কোটি ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ টাকার স্থাবর এবং ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮২০ টাকার অস্থাবর—মোট ৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তার তিন সন্তানের নামে পাওয়া গেছে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ১৯০ টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ৩৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৫ টাকা। দায়-দেনা বাদ দিলে তার নীট সম্পদ থাকে ৩৬ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯২৩ টাকা।
তদন্তে আরও জানা যায়, মহিউদ্দিনের স্ত্রী মারজিয়া আখতার সুমার নামে ১ কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৯ টাকার স্থাবর ও ৮০ লাখ ১২ হাজার ৫১১ টাকার অস্থাবর—সর্বমোট ২ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৬০ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তিনি গৃহিণী হওয়ায় কোনো বৈধ আয় নেই; ফলে এসব সম্পদ স্বামীর অবৈধ অর্থে অর্জিত বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, মহিউদ্দিন আহম্মেদের বৈধ আয় ৫৫ কোটি ২০ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ টাকা, ব্যয় ২৪ কোটি ৮২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৭ টাকা। বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪৭ টাকা; কিন্তু তার নিজ ও স্ত্রীর নামে পাওয়া মোট সম্পদের মূল্য ৩৯ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। এতে দেখা যায়, তার জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকার সম্পদ অতিরিক্ত।
অন্যদিকে তার বড় ভাই পটুয়াখালীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তিনি ১৫৪ কোটি ১০ লাখ ১২ হাজার ১৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তার এক সন্তানের নামে পাওয়া যায় আরও ৪৪ লাখ ৪১ হাজার ১৪৮ টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১৫৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৬৬ টাকা। এর মধ্যে তার দায়-দেনা রয়েছে ৯৬ কোটি টাকা। বাদ দিলে নিট সম্পদ দাঁড়ায় ৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৬৬ টাকা।
আবুল কামাল আজাদের স্ত্রী আকলিমা বেগম রুমার নামে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। তিনি গৃহিণী হওয়ায় কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই।
দুদকের মতে, তিনি স্বামীর অবৈধ অর্থে অর্জিত এই সম্পদ ভোগ দখল করে তাকে অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ে সহযোগিতা করেছেন।
দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবুল কালাম আজাদের বৈধ আয় রয়েছে ৫৭ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ব্যয় ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫২ টাকা। বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৮ টাকা; কিন্তু এই দম্পতির নামে পাওয়া নিট সম্পদের মূল্য ৬০ কোটি ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ৪০৩ টাকা। এতে দেখা যায়, বৈধ আয়ের তুলনায় ২৬ কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদের উৎস অসঙ্গতিপূর্ণ।
পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ সম্পদ ভোগ দখলে সহযোগিতার অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বাদী হয়ে পটুয়াখালী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের বড় ভাই ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে জানান, আমার ইসলামী ব্যাংকে ৯৭ কোটি টাকা, পদ্মা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও সাউথ বাংলা ব্যাংকে ১৭ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নগদ ঋণ নেওয়া আছে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মতো। আমাদের অনেক কাগজপত্র বাদ দিয়ে এ মামলাটি করা হয়েছে।
সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ কারাগারে থাকা তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।