ডেক্স রিপোর্টঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জের কবাই-লক্ষীপাশা ও পান্ডব নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। কবাই বালু ব্যবসায়ী মোঃ রুয়েল এর নেতৃত্বে কয়েকজন ড্রেজার মালিক অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব ড্রেজার ব্যবসায়ীরা উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কবাই চর, লক্ষীপাশা, সুনিল ফকিরের পুল, ডিসি রোড ৪-৫ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাতের আঁধারে অবাধে বালু তুলছেন। এতে নদীর তীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন স্থানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনও সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা অনুরোধ সত্ত্বেও বালু কাটা অব্যাহত রেখেছেন। এসব বালুখোকোদের নেতৃত্বে রয়েছেন কবাই মোঃ রুয়েল। কবাই, ডিসি রোড, নদীতে ইজারা না থাকা সত্বেও অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফুট প্রতি ১ টাকা ৪০ পয়সা করে উত্তোলন করছেন।
তারা আরও বলেন, প্রভাবশালী এসব অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার মেলেনি।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী যখন যেখানে খুশি নদীর সেখান থেকেই বালু উঠাচ্ছে। এর ফলে তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাধিকবার স্থানান্তর করার পর সেগুলো এখনও হুমকির মুখে রয়েছে। একইভাবে ভাঙনের কারণে কয়েক দফা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন অনেকে। এলাকাবাসী মনে করছেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ হলে হয়তো ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমবে।
এ প্রসঙ্গে বালু উত্তোলনকারী আনলোড ড্রেজারের শ্রমিক জানান, কবাই চর থেকে ড্রেজার লোড দিয়ে নিয়ে আসলে তারা আনলোড ড্রেজার দিয়ে বালু ফালান। ওই স্পটের ইজারা আছে কিনা তা তিনি জানেন না।
অভিযুক্ত কবাই মোঃ রুয়েল 01740585764 নাম্বারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে. এম. ইশমাম বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।