1. mohib.bsl@gmail.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

চাঁদের চেয়েও সুন্দর প্রিয় নবিজি

  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ মে, ২০২৪
  • ১০ Time View

তিনি ছিলেন খর্বকায় উচ্চতার এক অমিয় ব্যক্তিত্ববান সুপুরুষ। না ছিলেন আঁটো, না ছিলেন খাটো, না ছিলেন বেঁটে, না ছিলেন বৃহৎকায়, না লম্বা, না ছিলেন চিকন, না ছিল তাঁর কোনো মেদ। দেখতে কেমন ছিলেন তিনি?

তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী একজন মানুষ। মনুষ্যকুলের এমনকি সৃষ্টি জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর মাথায় ছিল ঘন কালো চুল। ওফাতের আগে যার ২০টিরও কম সংখ্যক পাক ধরে ছিল। চুলগুলো ছিল ঘাড় পর্যন্ত প্রলম্বিত ঈষৎ কোঁকড়ানো। যখন তেল দিয়ে আঁচড়াতেন মনে হতো মৃদুমন্দ ঢেউ খেলে যায়। তাঁর কপালটা ছিল চওড়া। যেন তা ধু-ধু মরুভূমিতে শুভ্র ফুলোজ কানন বিস্তৃত এক সমতল ভূমি।

যেখানে এ ভ্রষ্ট উম্মাহর গুরু দায়িত্বের কথা বিস্তারিত লেখা আছে। ভ্রু যুগল ছিল গাঢ় কৃষ্ণকায় জোড়া ভ্রু। একসঙ্গে লাগোয়া। ধনুকের মতো বাঁকা। মনে হতো-সপ্তমীর দুটো চাঁদকে কৃষ্ণকালো চক্ষুদ্বয়ের ওপর একসঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কেউ তাকালেই যেন চোখ সরাতে না পারে। চোখের পাতাদ্বয় ছিল ফুটন্ত গোলাপের পাপড়ির মতো সতেজ।

তিনি কখনো বা চোখের পলক ফেলতেন মনে হতো যেন মৃদুমন্দ বাতাসে গোলাপ পাপড়ি দোল খাচ্ছে অবলীলায়। তাঁর অক্ষিযুগলের সাদা অংশ ছিল রক্তিমাভ সাদা। মনে হতো যেন ওই সাদা অংশে গোলাপকাঁটা ছুঁয়ে দিলে লাল রক্ত চুয়ে পড়বে। আর কালো অংশ যেন কৃষ্ণ পরশপাথর। যদি বলি তাঁর আঁখিদ্বয় যেন ছিল দীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট সুরমা শোভিত দৃষ্টি পরশপাথর। যার দৃষ্টি সীমানায় এলেই দয়াময় আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করা যায় একথা ভুল হওয়ার নয়। তাঁর নাকটা ছিল খাড়া।

মাঝের অংশ ছিল ঈষৎ উঁচু। নাকের নিচেই ছিল সরু চিকন গোঁফ। আর গোঁফের নিচেই ছিল সেই গোলাপি রঙের ঠোঁট। দুধে-আলতা লালাভ ওষ্ঠাধর দিয়ে যখন কুরআনের অমিয় বাণী পাঠ করতেন তখন তাঁর মুখনিঃসৃত কণ্ঠের মধুর সুর শোনার জন্য আবু জাহেলের মতো নরাধম মুশরিকরাও নিশি রাতে লাইন ধরে ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকত। তাঁর দাঁতগুলো ছিল দৃড় সবল। সন্নিবেশিত দাঁতের মাঝে ছিল সামান্য ফাঁকা। যেন তা সারিবদ্ধ রজতশুভ্র গোলাপ কানন।

তিনি অট্ট হাসতেন না। যখন মুচকি হাসতেন মনে হতো দন্তের গ্রন্থিছিদ্র দিয়ে রাতের আকাশের তারাগুলো উঁকি দিচ্ছে যেন তা টুকরো টুকরো বিজলি। ঠোঁটের নিচে ছিল সাদা চুটকি দাড়ি অংশ। এর নিচেই ছিল বুক পর্যন্ত প্রলম্বিত দাড়ি। তারপর তাঁর কাঁধ ছিল সম্প্রসারিত। গিঁটগুলো ছিল শক্তিশালী, সবল, শক্ত-পোক্ত। ঘাড়ের সঙ্গে লাগোয়া অংশ ছিল ঈষৎ উঁচু যেন তিনি কোনো অতি উত্তমতর বীরপুরুষ। দুকাঁধের দূরত্ব ছিল কিছুটা বেশি। আর এর মাঝেই ছিল মোহরে নব্যুয়ত। তাঁর বুক ছিল হালকা লোমবিশিষ্ট। বুক থেকে নাভী পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল প্রলম্বিত। এ বুকেই আমাদের মতো গুনাহগার উম্মতের জন্য ভালোবাসা ছিল অগাধ। তাঁর গায়ের চামড়া ছিল অত্যন্ত মসৃণ ও নরম। আর গায়ের ঘামগুলো ছিল মেশক আম্বরের মতো সুবাসিত তরল।

ঊরুদ্বয় ছিল অত্যন্ত সুগঠিত ও সুন্দর। দুপায়ের গোড়ালি ছিল পাতলা ও সরু। তিনি হাঁটতেন দ্রুতপদে সামনের দিকে একটু ঝুঁকে। মনে হতো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন। রাসূল (সা.) যখন কোনো রাস্তা দিয়ে চলে যেতেন কখনো ওই রাস্তা দিয়ে সাহাবারা হাঁটলে এক মাস পর্যন্তও তাঁর শরীরের সুবাসিত জান্নাতি গন্ধ তারা পেতেন। যখন কখনো বা ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ঘরে ঢুকতেন মায়েরা (উম্মাহাতুল মু’মিনিন) তাঁর কপালে জমে থাকা মুক্তার দানার মতো চিকচিক করতে থাকা ঘামগুলো ছোট্ট শিশিতে ভরে রাখতেন। যাতে কখনোবা কোনো ঈদে, আচার-অনুষ্ঠানে সুবাসিত বস্তু হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আর অনন্য গঠন অবলোকন করে রাখালপত্নী রাখালের কাছে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছিল, ‘কে সেই অনন্য সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সুপুরুষ! যাকে ইতঃপূর্বে দেখা যায়নি?’ আয়েশা (রা.) যিনি আমাদের আম্মা। তিনি তো বলেই দিয়েছেন, ‘মিসরের সুন্দরী রমণীগণ ইউসুফ (আ.) দেখে তাদের হাত কেটে ফেলেছিল। তাদের কেউ যদি রাসূল (সা.) দেখত তাহলে অজান্তেই কলিজা কেটে রেখে দিত।’

সাহাবি জাবের বিন সমুরা (রা.) বলেন, ‘আমি এক নিশিত রজনিতে পূর্ণ পূর্ণিমার রাতে রাসূল (সা.)কে লাল চাদর আর লাল লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার নবি (সা.)-এর দিকে তাকালাম আবার পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালাম। আবারও একবার নবি (সা.)-এর দিকে তাকালাম আবার পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালাম আবারও এ রকম করলাম। শেষে মনে হলো পূর্ণিমার চন্দ্র অপেক্ষা রাসূল (সা.)-এর সৌন্দর্য অধিকতর সুন্দর ও চমৎকার।’ ঈষৎ বৃহৎ মাথাবিশিষ্ট তীক্ষ্ণ মেধা বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, উম্মতের জন্য অত্যন্ত দরদি ও সেজদায় কান্নারত মানুষটিই ছিলেন আমাদের রাসূল মুহাম্মদ (সা.)। তার ও তার পরিবার পরিজনের প্রতি বর্ষিত হোক অগণিত সালাত ও সালাম।

বুখারি, তিরমিজি ও দারিমির হাদিস অবলম্বনে লিখেছেন : মো. আবু হামজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole