1. mohib.bsl@gmail.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

বাজেট বাস্তবায়নে ধীরগতি

  • Update Time : সোমবার, ৬ মে, ২০২৪
  • ১৪ Time View

উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ হলেও তা ব্যয়ে বরাবরই বিলম্ব হতে দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮১ কোটি। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে জুনের মধ্যে। মে মাস চললেও সরকার এখন পর্যন্ত ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করেনি। বাকি চার মাসে ৬০ শতাংশ ব্যয় করতে হলে দৈনিক ব্যয় করতে হবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা করে। আবার এ পর্যন্ত যা ব্যয় হয়েছে, এর বড় অংশই গেছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ ও ভর্তুকিতে। জানুয়ারি পর্যন্ত সুদ ও ভর্তুকি খাতে যে বরাদ্দ ছিল, তার চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি ব্যয় হয়েছে। আর উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭০ হাজার কোটি টাকা। আরও দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রাজস্ব আহরণ, মোট ব্যয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়ন ও পরিচালন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এমন অবস্থায় অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, শেষ ৪ মাসে তড়িঘড়ি করে বিপুল অঙ্ক খরচ করতে গিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। শুধু তাই নয়, এতে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে শেষ সময়ে বিপুল অঙ্কের খরচের বিষয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়, বছরের শেষ সময়ে মন্ত্রণালয়গুলোর অস্বাভাবিক খরচের কারণে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। অপরদিকে রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয়-এ দুয়ের মধ্যে কোনো পরিকল্পনা থাকছে না। এতে অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এবং ঋণসংক্রান্ত ব্যয়ের দায়ভার বহন করতে হয় সরকারকে, যা আর্থিক শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বছরের শুরুতে অর্থ ব্যয়ের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি কার্যকর হয়নি।

আমরা মনে করি, উন্নয়নসহ নানা প্রকল্পে বাজেট ব্যয়ের এ ধীরগতি দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি সমস্যা। দেখা যায়, বাজেট পাশের পর মন্ত্রণালয়গুলো প্রথম দিকে টাকা কম ব্যয় করে। আবার শেষ দিকে খরচের হিড়িক পড়ে। আর তখনই কাজের এবং অর্থ ব্যয়ের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাজেই বারবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। না হলে একই সমস্যা প্রতিবছরই ঘটবে। কেন তারা প্রথমদিকে অর্থ ব্যয় করতে পারে না, শেষদিকে কেন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, সেটির জবাব নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই সঠিক সময়ে বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহারে মন্ত্রণালয়গুলোর পরিকল্পনা ও অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole