1. admin@barisalerkhobor.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হালচাল

  • Update Time : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪
  • ১৪ Time View

রমজান মানব জীবনকে শোধরানোর মাস। রমজান আমাদের জীবনের সব পাপ-পঙ্কিলতা দূর করে নিয়ে আসে শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের বার্তা। প্রিয় নবি রাসূল (সা.) বলেছেন, ইমান ও ইখলাছের সঙ্গে যারা রোজা রাখেন, মহান আল্লাহ তাদের অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন। মাহে রমজান পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। রমজান আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে মহান আল্লাহর দয়া অর্জনের সুযোগ দিতে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ পবিত্র মাস আমাদের মাঝে সব হানাহানি, ভোগবিলাস, অপচয়, অন্যায়, অবিচার, অসংযম পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে শেখায়। এ মাসে সব অকল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রেখে পরবর্তী জীবনে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এ প্রশিক্ষণ মানব জীবনে বিশাল সুপরিবর্তন আনে। রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষে মানুষে প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসার বন্ধন, ধনী-দরিদ্রের আÍার বন্ধন কাছাকাছি চলে আসে। রমজান মাস আমাদের জীবনের শিখন ঘাটতি পূরণের মাস। এ মাসে প্রায় সব মুসলমান তাদের সারা বছরের খারাপ কাজগুলোর ঘাটতি পূরণ করার জন্য ভালো কাজ করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

আজকের শিক্ষার্থী আগামী প্রজন্মের হৃৎপিণ্ড। তাদের সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে তারা সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে। সুনাগরিকদের মাধ্যমে তৈরি হবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এ রমজান মাসের শিক্ষাই পারে আগামী প্রজন্মকে অনেকটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। শিক্ষায় শিখন ঘাটতি অতি আদি বিষয়। এ শিখন ঘাটতি দূর করার বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ বর্তমান সময়ে দৃশ্যমান নয়। আমাদের সময়ে শিক্ষার্থীদের ছুটির শেষে পড়া শিখে বাড়ি যেতে হতো। বর্তমানে নিরাময়মূলক ক্লাসের জন্য ছুটির আগে ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণির কার্যক্রম ২৫/৩০/৪০ মিনিট। এ স্বল্প সময়ের কার্যক্রমে শিখন ঘাটতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এজন্য শ্রেণির কার্যক্রম একঘণ্টা করা প্রয়োজন। একটা প্রবাদ আছে ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।’ শিখন ঘাটতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট। এ সংকট দূরীকরণে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল তৈরি করা। যাতে শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব হয়।

রমজান মাসে শিখন ঘাটতি দূর করার নামে রোজায় স্কুল খোলার কার্যক্রম কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে, তা বাস্তবতার নিরিখে পর্যালোচনা করা হলো।

৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কমপক্ষে ছয়টা বা তার বেশি শ্রেণির কার্যক্রম করতে হয়। রোজা রেখে একটা বা দুটো শ্রেণির কার্যক্রম যথাযথভাবে করলেও পরবর্তী কার্যক্রমগুলো দায়সারা বা যেনতেনভাবে শেষ করে থাকেন। তাদের এ পাঠদানের মাধ্যমেও শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। রোজা রেখে ক্লান্তি ও তৃষ্ণা শিক্ষকদের দেহে ভর করে। এতে তারা পাঠদানের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শিক্ষার্থীদের হইচই চিল্লাচিল্লিতে মানসিক প্রশান্তির পরিবর্তে শিক্ষকদের অশান্তি ভোগ করতে হয়।

আমাদের দেশের জনগণ অতি ধর্মপরায়ণ। প্রত্যেক ধর্মের জনগণ তাদের ধর্ম, কর্ম, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কৃপা লাভের চেষ্টা করে থাকেন। বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আমাদের ধর্মের অন্যতম ইবাদতের মাস রমজান। এ মাসে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে খুব সহজে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। এ প্রেক্ষাপটে ধর্মপরায়ণ মুসলমানরা রোজা পালনের পাশাপাশি মসজিদে জামাতে নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-খয়রাত, গরিব মানুষ ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে ইফতার বিতরণসহ নানা ভালো কাজ করে থাকেন। বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও কুরআন পড়ে, রোজা রাখে। মসজিদে জামাতে নামাজ পড়াসহ নানা ধরনের ভালো কাজ করে। রোজার মাসে বিদ্যালয় খোলা রাখার হালচাল দেখার অভিপ্রায়ে প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করে যে চিত্র দেখা গেল, তা নিম্নরূপ। ১২.০৩.২৪ তারিখে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের উপস্থিতি ২০ শতাংশের নিচে। ১৩.০৩.২৪ ও ১৪.০৩.২৪ তারিখে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকের ১টি স্কুলে মোট ১০৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতি ছিল, যথাক্রমে ২৮০ ও ২৫০ জন। ২৮.০২.২৪ তারিখে উপস্থিত ছিল ৭৯৭ জন। ০৩.০৩.২৪ তারিখে উপস্থিত ছিল ৬৩৮ জন। ০৩.০৩.২০২৪ তারিখে উপস্থিতি কম প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মৌচাক, খিলগাঁও, তালতলাসহ বড় বড় মার্কেটে ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রোজার মাসে কাজ করে। তাদের উপস্থিতি মার্কেটগুলোতে গেলেই পাওয়া যাবে। আরও ১১টি প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার হলো-

১. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ

২. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ

২. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৬০ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ

৪. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ

৫. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪০ শতাংশ ও ৪২ শতাংশ

৬. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৩ শতাংশ ও ৪১ শতাংশ

৭. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৪ শতাংশ ও ৪৯ শতাংশ

৮. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৭ শতাংশ ও ৪৩ শতাংশ

৯. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪১ শতাংশ ও ৪২ শতাংশ

১০. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৫২ শতাংশ ও ৪৭ শতাংশ

১১. ১৩.০৩.২০২৪ ও ১৪.০৩.২০২৪ তারিখ ৪৩ শতাংশ ও ৪৪ শতাংশ

প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, এ উপস্থিত শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে পুরোটা সময় নয়। বিরতির সময়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেওয়াল টপকিয়ে বা বিভিন্ন উপায়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে। বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে দেখা গেল, প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মাঝেও রোজা রাখার প্রবণতা দৃশ্যমান। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। তৃতীয় থেকে ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে রোজা রাখার প্রবণতা প্রায় ৯৫ শতাংশ। রোজা রাখায় তাদের ওপর শারীরিক, মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে উপস্থিতির হার খুবই কম। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না। এই চিত্র শুধু ঢাকা শহরের। ঢাকা শহরের বাহিরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা রোজা বেশি রাখে। এতে মেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। শিখন ঘাটতি দূরীকরণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত না করে রোজার মাসে বিদ্যালয়ে খোলা রাখা কতটা যৌক্তিক? নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের রোজার মাসে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা জরুরি। রোজা থেকে শিক্ষকদের মতো ছয়-সাতটা শ্রেণির কার্যক্রমের পরিবর্তে কমপক্ষে দুই একটা ক্লাস করে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সবিনয় নিবেদন রইল। শিখন ঘাটতি দূর করার জন্য শিক্ষক ঘাটতি শূন্য নামিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি পিরিয়ডের সংখ্যা কমিয়ে সময় বৃদ্ধি করতে হবে। জানুয়ারি মাসের ২ তারিখ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পুরো শ্রেণির কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। মূল্যায়ন, পরীক্ষা ও ভর্তির কার্যক্রম ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে। আর যেন না হয় রোজার মাসে শিখন ঘাটতির নামে বিদ্যালয় খোলা রাখার কার্যক্রম। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole