1. admin@barisalerkhobor.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কিমিটির সভাপতির দ্বারা নারী অভিভাবক লাঞ্ছিত

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৯৮৫ Time View

ডেক্স রিপোর্টঃ

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠী গ্রামের পূর্ব-দাওকাঠী মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার (সাবেক) সুপার ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন বর্তমান মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান এর কক্ষে উপস্থিত মাওলানাদের সম্মুক্ষে মাদ্রাসা ছাত্রীর মাকে লাঞ্ছিত করেন।

আগামী ১০ মার্চ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন। গোপনে পকেট কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করার চেষ্টায় মাদ্রাসা সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও বর্তমান সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন। বর্তমান সভাপতির সাথে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে আবারো তাকে নির্বাচিত করার নীল নকশা বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে সভাপতি তার নিজস্ব ৪/৫ জন ব্যক্তিকে ফর্ম বিতরণ করে তাদের ভোট এবং সমর্থন দেখিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় একটি ছক তৈরি করেছিলেন। নির্বাচনে অন্য কোনো অভিভাবক যাতে ভোটার হতে না পারে, তাই কৌশলে ১৮ই ফেব্রুয়ারি সদস্য ফর্ম বিক্রির শেষ তারিখ গোপন রেখেছিলেন।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের পূর্ব-দাওকাঠী মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী (তাহিরা) রোল নং (২৪) এর মা (পারভীন বেগম) ফর্ম বিক্রির শেষ তারিখ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকাল ৩ টার সময় সদস্য ফর্ম সংগ্রহ করতে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। তিনি মাদ্রাসা সুপারের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সদস্য ফর্মের জন্য আবেদন করেন। মাদ্রাসা সুপার ফর্ম না দেয়ার চেষ্টায় অনেক বাহানা করেন তার সাথে এবং বর্তমান সভাপতিকে বিষয়টি ফোনে জানান। মাদ্রাসা সুপার সদস্য ফর্মের জন্য চার হাজার টাকার দাবি করেন। পারভীন বেগম বলেন এতো টাকা আমি নিয়ে আসিনি আমাকে টাকা আনতে আবার বাড়ি যেতে হবে। সুপার বলেন ৪:০০ টার মধ্যে আসতে পারলে পাবেন নয়তো আশার দরকার নেই। তাদের চলামান বির্তকের মধ্যে সাজানো নির্বাচনের অধিনায়ক সভাপতি প্রার্থী এবং বর্তমান সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন উপস্থিত হয়ে পারভীন বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, তুই আমাকে ভোট দিবিনা, তোর ভোটর হওয়া লাগবেনা এবং তাদে মাদ্রাসা থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার হুমকি প্রধান করেন।

ঘটনাস্থানে দৈনিক কলমের কন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে, মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেনের কাছে গালাগালির বিষয় জানত চাইলে, তিনি এবং মাদ্রাসার সুপার প্রথমে সাংবাদিকদের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং সাংবাদিকদের মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যেতে হুমকি প্রধান মাধ্যমে সভাপতি কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে সাংবাদিকের চোখ এরিয়ে যেতে না পেরে তিনি জানান, আমি এই মাদ্রাসার সভাপতি ছিলাম আবার নির্বাচিত হবো। আমি কাকে সদস্য ভোটার করবো সেটা আমার ইচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অভিভাবক পারভীন বেগম জানান, মাদ্রাসার নির্বাচনের বিষয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে চেয়েছিলেন মাদ্রাসা সুপার ও বর্তমান সভাপতি। আমি গোপনে খবর পেয়ে সদস্য ফর্ম সংগ্রহ করতে এলে মাদ্রাসা সুপার আমার কাছে চার হাজার টাকা দাবি করেন এবং সভাপতি তার উপস্থিতিতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমি তাকে ভোট দিবোনা তাই আমাকে ভোটার হতে দেবে না। কান্না জড়িত চোখে তিনি আরো বলেন, এই সভাপতি শুধু আমাকে না এভাবে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গালাগালি করেন বিভিন্ন সময়। এই মাদ্রাসায় ২৩০ জন শিক্ষার্থী অফিসিয়াল ফাইলে দেখানো হলেও বাস্তবে ৫০ জন শিক্ষার্থী এখানে নেই। সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা সভাপতি ও মাদ্রাসা সুপার ভাগ করে খায়। আমি সরকারের কাছে এই মাদ্রাসার সঠিক তদন্তের দাবি জানাই এবং আমাকে গালাগালির সঠিক বিচার চাই।

মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সভাপতির মাথাটা একটু গরম থাকে সবসময় আমরাও ভয়ে অনেক সময় তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেতে পারিনা। সাংবাদিকদের বলেন আপনারা তো জানেন সব কিছু সঠিক ভাবে চালানো সম্ভব নয়। বাস্তবে ১০০ জনের মতো শিক্ষার্থী আছে আমাদের প্রতিষ্ঠানে আছে। কিন্তু কাগজপত্রে ২৩০ জন শিক্ষার্থী দেখানো লাগে নয়তো মাদ্রাসাটির সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ফর্ম বিক্রির চার হাজার টাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অনেক খরচ আছে। উপজেলার বিভিন্ন অফিসার ও মাদ্রাসার শিক্ষক স্থানীয় কিছু মুরব্বিরা আসেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় এবং তাদের সবাইকে একটু খুশি করতে হয়। তাই চার হাজার টাকা করে আমি ফর্ম বিক্রি করি এটা সত্য।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের পূর্ব-দাওকাঠী মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে দ্বায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োজিত উপজেলা পল্লী উন্নয়নের ওবায়দুল হোসেন জানান, আমি প্রিজাইডিং অফিসারে দ্বায়িত্বে আছি কিন্তু মাদ্রাসা সুপার যেভাবে ভালো মনে করবে তার ইচ্ছে মতো নির্বাচন হবে। চার হাজার টাকা একটি ফর্ম বিক্রি কিভাবে সম্ভব তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অনেক খরচ তাই সুপার তার সুবিধাজনক ভাবে চার হাজার টাকা মূল্য নির্ধারিত করছে। যদি প্রয়োজন হয় আরো বেশি টাকা নিত পারেন। এবিষয় আমার পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole