1. admin@barisalerkhobor.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

যে পাঁচ কারণে মানুষ পাপে জড়ায়

  • Update Time : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৫ Time View

পাপ মানে আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) অবাধ্যতা। কথা কাজে বা আচরণে ধর্মনীতি অমান্য করা। পাপ এবং গোনাহ সমার্থবোধক। আরবিতে ইসমুন, জানবুন, মাসিয়াতুন শব্দগুলো পাপের অর্থে ব্যবহৃত হয়।

নবী-রাসুলরা সবাই ছিলেন নিষ্পাপ। ফুলের মতো পবিত্র। তাদের কারো থেকেই কোনো পাপ হয়নি। উম্মতকেও পাপ থেকে বেঁচে থাকার আদেশ করা হয়েছে; কিন্তু  বাস্তবতা এর উল্টা। পাপের আঁধার থেকে উম্মত বেঁচে থাকেনি। কেউ তো বেঁচে থাকার চেষ্টাও করেনি। বরং পাপের পঁচা পথেই পা বাড়িয়েছে।

সাধারণত পাঁচটি কারণে মানুষ পাপে জড়ায়।

এক. আমাকে কেউ দেখছে না। আমার পাপের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। এই মানসিকতায় মানুষ পাপে জড়ায়। অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। কুরআনে কারিমে এই মানসিকতাকে খন্ডন করা হয়েছে শক্তভাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তা তোমার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (সুরা আল ফজর, আয়াত-১৪)

পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে মানুষের গতিবিধি যেমন নজরদারদাবি করা হয়। তেমনিভাবে আল্লাহতালাও মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত নজরদারি করেন।

দুই. আমার এই কাজের কথা কে জানবে? কেউই এই পাপের ব্যাপারে অবগত হতে পারবেনা। এই মানসিকতায় মানুষ অন্যায় অপকর্মে জড়ায়। কুরআনে কারীম এই মানসিকতার জবাব দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনি চোরাই চোখের চাহনি এবং অন্তরের গোপন বিষয়ে সম্পর্কেও জানেন। (আল মুমিন আয়াত-১৯)

তিন. মানুষ মনে করে আমি একা। আমার আশপাশে কেউ নেই। এ ভাবনায় মানুষ পাপে জড়ায়। আল কোরআন মানুষের এই ভাবনাকে ভুল বলে সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা যেখানেই থাকো না কেনো আল্লাহ তোমাদের সাথেই রয়েছেন এবং তোমরা যা করো তিনি তা দেখতে পান। (সুরা হাদীদ আয়াত নং-৪)

চার. পরিণতি সম্পর্কে উদাসীনতা পাপে জড়ানোর অন্যতম কারণ। কত পাপই তো করি, এটা করলে কি আর হবে? এমন অন্যায় তো অনেকেই করে, আমি করলে কি সমস্যা? এই খেয়ালি মানসিকতা এক ধরনের মানসিক ব্যাধি। পাপের পরিণতি সম্পর্কে এমন মানসিকতার জবাব দিয়েছে আল কুরআন। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই তার শাস্তি খুবই মারাত্মক এবং বড়ই কঠোর। (সুরা হুদ, আয়াত নং -১০২)

পাপের পরিণতি সম্পর্কে কুরআনে কারিমে ঘোষণা হয়েছে এবং পাপিদেরকে তার বাঁধার মতো কেউ বাঁধতেও পারবে না। (সুরা আল-ফাজর, আয়াত নং-২৬)

সাময়িক মজা বা তৃপ্তি পেলেও পাপের পরিণাম হবে নজিরবিহীন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের কেউ অবাধ্যচারী হলে আমি তাকে এমন শাস্তি দিব যা জগৎবাসীর কাউকেই দেব না। (সুরা মায়েদা, আয়াত নং -১১৫)

পাঁচ. ভিত্তিহীন যুক্তি পাপের বড় কারণ। যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়, এটা কেন পাপ হবে? এতো যুক্তিতে ধরে না। ইবলিস আল্লাহর আদেশের সামনে যুক্তি দিয়ে বলেছিল ‘আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর আদমকে মাটি থেকে। অতএব আমি আদম থেকে উত্তম। তাকে সেজদা করব না।’
এমন যুক্তি দিয়ে সে জনমের তরে ধরা খেয়েছে। বিতাড়িত এবং অভিশপ্ত হয়েছে চির জীবনের জন্য। অথচ সে ভাবেনি যে, যিনি আগুন সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো মাটি সৃষ্টি করেছেন। এভাবেই খোঁড়া যুক্তিতে মানুষ পাপের পথে পা বাড়ায়।

আবার কেউ এই যুক্তিতে পাপ করে যে, এমন কাজ তো অনেকেই করে! আমি করলে কি সমস্যা! এসব যুক্তি মূলত মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি তুমি জগতের অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ কর তাহলে তারা তোমাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা তো কেবল আন্দাজ অনুমানের করে চলে। (সুরা আনআম, আয়াত নং-১১৬)

আল্লাহ তায়ালা পাপের অজুহতগুলোর জবাব কুরআনে ঘোষণা করে দিয়েছেন। যাতে করে মানুষ পাপের পথ থেকে মুক্তির পথে ফিরে আসে। পাপের সাময়িক মজা এবং তৃপ্তি যেন পরকালীন সাজার কারণ না হয়। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সেই সমঝ দান করুন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole