1. admin@barisalerkhobor.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

আবার আওয়ামী লীগের জয়: সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩১ Time View

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ৩০০ সংসদীয় আসনের যে ২৯৯টিতে রোববার ভোট হয়েছে, তার মধ্যে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২২৩ আসনে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ১১ আসনে। এছাড়া ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাঙিক্ষত মাত্রায় ভোট না পড়ায় নির্বাচন উৎসবমুখর হয়ে উঠতে পারেনি। দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির অংশ না নেওয়া নির্বাচনে ভোট কম পড়ার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা যায়। তাছাড়া আরও কিছু কারণে ভোটাররা ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসেননি।

নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও কোনো কোনো আসনে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। যেমন ঢাকা-১ আসনের (দোহার-নবাবগঞ্জ) বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান এবং কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়াসহ বেশকিছু অভিযোগ তুলেছেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সার্বিকভাবে নির্বাচনটিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষক। তারপরও সারা বিশ্বে এর কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা দেখার বিষয়। কারণ এর ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্য। বস্তুত এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা পেয়েছে বটে, তবে যেহেতু জনগণের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, সেহেতু দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি উপাদান রয়েই গেছে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকারের উচিত হবে এটা কীভাবে দূর করা যায়, সেই চেষ্টা করা। এক্ষেত্রে নির্বাচনের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতার উদ্যোগ নিতে পারে সরকার। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে বাধাগুলো অপসারণ করা উচিত। কারণ এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেক্ষেত্রে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি এবং সহিংসতার পথ পরিহার করতে হবে বিরোধী দলগুলোকে। মনে রাখতে হবে, অস্থিরতার ফলে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা দিলে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। কাজেই সব বিরোধী দলকে আস্থায় এনে দেশ পরিচালনা করাই নতুন সরকারের জন্য সুবুদ্ধির পরিচায়ক হবে। বস্তুত জাতীয় নির্বাচনে বড় বিজয় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। বিশেষত রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করি আমরা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশে সর্বব্যাপী দুর্নীতি দমন করা হবে নতুন সরকারের আরেকটি বড় দায়িত্ব। বস্তুত দুর্নীতি দেশের অর্থনীতির বর্তমান নাজুক অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে নতুন সরকারকে পদে পদে সংকটে পড়তে হবে। নতুন সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে এসব ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশাই করি আমরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole