1. admin@barisalerkhobor.com : admin : Md Mohibbullah
  2. editor@barisalerkhobor.com : editor :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

অতঃপর দেশে শান্তি ফিরে আসুক

  • Update Time : রবিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩০ Time View

আগামীকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে; আর সেই সঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে আমাদের দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

এবার আমরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের তেপান্নতম বিজয় দিবস উদযাপন করলাম। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। আর সে সময় থেকেই আমরা স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্বদরবারে নিজেদের নাম লিখিয়ে বাঙালি জাতির ঝাণ্ডা তুলে ধরেছি। কিন্তু আমাদের সে গৌরব, সে গর্ব নিজেরাই আজ আমরা যেন নষ্ট করতে বসেছি; আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল ও নেতারা ক্ষমতার লড়াইয়ে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়ায় স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় আমাদের দেশটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে কিনা সে বিষয়ে আমাদের আশঙ্কা প্রকাশ করতে হচ্ছে; একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পাকিস্তানিরা চলে যাওয়ার পর আজ এত বছর পার হয়ে গেলেও আমরা আমাদের রাজনৈতিক লোভ-লালসার কারণে অন্যান্য বিদেশি শক্তির কাছে ধরনা দিয়ে তাদের আমাদের মাথায় তুলে রেখেছি এবং বর্তমানে তারা আমাদের মাথায় বসে আছে শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে ঘাড়ও মটকাতে চাচ্ছে। এজন্য আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা অপরাজনীতিই দায়ী। কারণ আমাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, হানাহানি, মারামারির কারণেই বিদেশি শক্তি আমাদের ওপর এখনো লাঠি ঘোরাচ্ছে। যেহেতু আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লোভে নিজেদের মধ্যে দিন-রাত ঝগড়া-ফ্যাসাদ জিইয়ে রেখেছি এবং বছরের পর বছর, এমনকি যুগ যুগ ধরে সেই কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি, তাই সেই সুযোগে বিদেশি শক্তি আমাদের কবজায় আনতে চাচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার মতো দেশটিকে ঘাড় থেকে নামানোই যাচ্ছে না! উপরন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আমাদের আশপাশের দু-একটি দেশও আমাদের দেশ নিয়ে মাথা ঘামানো অব্যাহত রেখেছে; আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে! আগেই বলেছি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে আমরা নীতিহীন ও আপসহীনভাবে নিজেদের মধ্যে লড়াই করার কারণেই তারা এ সুযোগ পাচ্ছে।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতা ছাড়া কিছুই বোঝে না। ফলে ক্ষমতার দ্বন্দ্বেরও মীমাংসা হয় না। এ অবস্থায় বিদেশি শক্তিও নাক গলানোর সুযোগ পেয়ে যায়; ধূর্ত শেয়ালের মতো তারাও ওতপেতে থাকে। একেক দেশ একেক দলের পক্ষে মাঠে নেমে খেলা শুরু করে দেয়। অবশেষে অবস্থাটা এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে যে, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দুটি শক্তি বলয় এখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক ময়দানে নেমে প্রত্যক্ষভাবে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করে খেলা শুরু করে দিয়েছে। আর এ বিষয়টিই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হচ্ছে, ‘আমাদের দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে!’

আজ থেকে অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া একটি দেশ আজ যদি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্মুখীন হয় এবং তা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা বা দেউলিয়াত্বের কারণে হয়, তাহলে দেশ ও জাতির জন্য এর চেয়ে কষ্টদায়ক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। অথচ আমাদের দেশে এমনটিই ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে; ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের মানুষের রুটিরুজি বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর অনৈতিক রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণ করার জন্যই এসব করা হচ্ছে! রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন হতে চাওয়ায় বারবার দেশ ও জাতির ভাগ্যে দুর্যোগের কালোমেঘের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে। রাস্তাঘাটে মানুষকে বেঘোরে প্রাণ দিতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই হরতাল-অবরোধে জনজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশের মানুষকে জ্বালাও-পোড়াও মোকাবিলা করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। যদিও আমরা একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন জাতি; কোনো বিদেশি শক্তির অধীনে আমরা শাসিত বা পরিচালিত নই; কিন্তু এতদসত্ত্বেও আমাদের চলাফেরা, ওঠাবসায় স্বাধীনতা নেই; শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে নির্বিঘ্নে চলাফেরার নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় স্বভাবতই যে প্রশ্নটি এসে যায় তা হলো, ‘আমরা স্বাধীন কীভাবে, এ কেমন স্বাধীনতা?’

আসল কথা হলো, রাজনীতির নামে আমাদের দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, রাজনীতি একটি লোভনীয় পেশার মাত্রা অতিক্রম করে তা সিন্ডিকেট ব্যবসার পর্যায়ে চলে গেছে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা যেমন বিভিন্ন মৌসুমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুনাফা লুটে নেয়, তেমনি রাজনৈতিক সিন্ডিকেটও অবৈধভাবে মুনাফা অর্জনের জন্য মাঠে নেমে পড়েছে! অন্যথায় এসব রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধির বেশিরভাগেরই পাঁচ-দশ বছরের ব্যবধানে সম্পদের পরিমাণ দুইশ, তিনশগুণ এবং কারও কারও ক্ষেত্রে পাঁচশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেত না। সুতরাং, আমাদের দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনেও যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটে চলেছে, সে কথাটি এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এ দুর্বৃত্তায়নের ফলে জনজীবনও যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সে কথাটিও সত্যি। কারণ, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণেই আজ জনজীবনে এতটা অশান্তি। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লোভ-লালসার কারণেই আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারে না; মানুষকে বাসে-ট্রেনে পুড়ে মরতে হয়! রাজনৈতিক কারণেই দেশের সম্পদ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির লোক আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, আর এক শ্রেণির নুন আনতে পানতা ফুরাচ্ছে! সাধারণ আয়ের সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে; পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। আর এ সবকিছুর জন্য দায়ী রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, রাজনৈতিক লুটেরা চক্র তথা রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। কারণ, রাজনৈতিক সিন্ডিকেটই নিজেরা মারামারি, হানাহানি জিইয়ে রেখে তাদের স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছে।

এ অবস্থায় এখানে আরও যে প্রশ্নটি জাজ্বল্যমান তা হলো, এসব অপশক্তির হাত থেকে মুক্তির উপায় কী? তাদের হাত থেকে মুক্তির জন্যও কি আমাদের আরও একটা মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে? জানি না এ প্রশ্নের উত্তরই বা কী।

তবে যাদের দ্বারা দেশের রাজনীতি পরিচালিত হয়, তাদের প্রতি এ অনুরোধটুকু বোধহয় রাখতেই পারি যে, অতঃপর দেশে যেন শান্তি ফিরে আসে। অন্যথায় মুক্তির জন্যই কিন্তু আমাদের আরও একটি মুক্তিযুদ্ধে নামতে হবে!

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved ©
Theme Customized By BreakingNews
Optimized by Optimole