1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. h.m.shahadat2010@gmail.com : Barisalerkhobor : Barisalerkhobor
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

লজ্জাস্থানকে হিফাযত

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৪২ Time View

মোঃআল-আমিন সরদার খলিলিঃ

লজ্জাস্থানের হিফাযত তথা সতিত্ব ও চরিত্র রক্ষা করে জীবন-যাপন করা একমাত্র পর্দার মাধ্যমেই সম্ভব, শরয়ী পর্দার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা নারী জাতির সম্মান বৃদ্ধি করেছেন যা আমরা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারি। মূল্যবান বস্তু সামগ্রীকে মানুষ সর্বদা লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখে, কারণ তা হাইজ্যাক, ডাকাতি কিংবা ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তদ্রূপ নারী জাতিও অতি মূল্যবান ও সম্মানিত। তাই মহান আল্লাহ নারী জাতির মর্যাদা সংরক্ষণের লক্ষ্যে নারীকে পর্দায় থাকার নির্দেশ করেছেন যাতে মানুষ নামের অমানুষের অত্যাচার তথা ইভটিজিং, ছিনতাই, অপহরণ, সম্ভ্রমহানী, ধর্ষণ ও এসিড নিক্ষেপের ন্যায় নির্যাতন থেকে তারা নিরাপদ থাকতে পারে।

মহা প্রজ্ঞাময় আল্লাহ যে জিনিস যে বৈশিষ্ট্যসম্বলিত করে সৃষ্টি করেছেন ও যে পরিবেশে থাকার কথা বলেছেন, সেভাবে চললে ও সে পরিবেশে থাকলেই তবে তার সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকবে, আর এর বিপরীত হলেই অসম্মান ও লাঞ্ছনার গ্লানী সহ্য করতে হবে। ধরুন, একটি বার মাসী সুস্বাদু ফল হলো কলা, সৃষ্টিগতভাবে তার ওপর একটি আবরণ বা খোসা থাকে কলার সে আবরণ ফেলে দিয়ে যদি কেউ বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায় কিংবা কেউ কোথাও হাদীয়াস্বরূপ নিয়ে যায় তাহলে সেটা কেউই গ্রহণ করবে না, বরং তার বাহককে পাগল ও বিকৃতমস্তিষ্ক বলতেও দ্বিধা করবে না। অনুরূপ নারী জাতি যতক্ষণ তার শোভন পর্দা বা নিরাপত্তা আবরণ ঠিক রাখবে ততক্ষণ সে নিশ্চিত সম্মানিতা, তবে যদি কখনো তা পরিত্যাগ করে তখন আর তার সে মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকে না।

হায়রে অবলা নারী। বুঝলে না তোমার সম্মান কোন জায়গায়, কিসের মধ্যে তোমার মর্যাদা নিহিত ? প্রিয় ভগ্নি! একটু ভেবে দেখ, তুমি যখন পর্দার আড়ালে ছিলে তখন মিষ্টি ও সন্দেশের ৮/১০ বাক্স ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে তোমার বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল পাত্রপক্ষ, তোমার মুখখানা একটি বার দর্শন করে আঙ্গুলে পরিয়ে দিয়েছিল মূল্যবান স্বর্ণের আংটি, হাতে গুজে দিয়েছিল কমপক্ষে দু’দু’টি চকচকে পাঁচশত টাকার নতুন নোট, অতঃপর যখন তুমি সম্মানের প্রতীক পর্দা পরিত্যাগ করে ঘরের বাইরে বের হলে তখন ধুলায় মিশে গেল তোমার সে ঈর্ষণীয় মর্যাদা, এখন আর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বরপক্ষকে
টাকা খরচ করে মিষ্টির বাক্স হাতে তোমার দর্শনার্থী হওয়ার প্রয়োজন না বরং তোমার কলেজ টাইমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অথবা বান্ধবীদের নিয়ে তোমার ডেটিং সিডিউল মত উদ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্রমর পুরুষ পান করে যার তোমার সুধা অবলিলায়, অথচ তুমি বঞ্চিত রয়ে গেলে তোমার প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান থেকে, রাস্তা থেকেই তোমাকে গ্রহণ অ প্রত্যাখানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে অনায়াসে বরপক্ষ।

হায়রে অবুঝ নারী! ভুলে গেলে তুমি কার বংশধর? তুমি কি রমণীর সমজাতীয় শত, যিনি জান্নাতী নারীদের সর্দারনী হবেন? তোমা সজাতির উপর থেকে কি সকল নবী-রাসুলগণ সৃষ্টি হন নি? এমন কি ে নবীও তো তোমাদেরই স্বগোত্রীয় মাতৃগর্ভ থেকেই এ ধরাধামে আগমন করেছেন, যাঁকে সৃষ্টি না করলে এ সুন্দর পৃথিবী সৃষ্ট ।

সকল অলী-আবদাল, গাউস-কুতুব, পীর-মুরশিদ, দরবেশ-মাশায়েখ ভূপৃষ্ঠে তোমাদের নারী জাতির গর্ত হতেই কি ইহানে আসে স মহামনীষীদের জননী হওয়া সত্ত্বেও কেন তোমার আজ এ দুর্গতি অপমান? তোমার পায়ের নীচেই তো তোমার সন্তানের জান্নাত ছিল, তুমি কী তোমার সে মর্যাদার কথা স্মরণ করে জাগ্রত হও, জ্বলে ওঠ, শাশ্বত ইসলাম তোমাকে সেদিকেই উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে, হাতছানি দিয়ে ডাকছে এখনো সময় আছে চলে এস।

একমাত্র পর্দাপ্রথা ও পরহেযগারাই তোমার সে সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারে, ধন-দৌলতের চেয়ে ফ্যারো ও কারখানার মূল্য অনেক বেশী, কারণ ফ্যাক্টরী থাকলে তবেই উচ্চ ফ্যাক্টরী থেকে ভাল বন্ধু আশা করা। যায়, কিন্তু ফ্যাক্টর যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে ভাল পন্যের আশা করা যায় না, তাই ফ্যাক্টরীকে খুব সতর্কতার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করতে হয়। উদাহরণত কর্ণফুলী পেপার মিলকে আবদ্ধ করা হয়েছে চার দেয়ালের ভিতর, একটি নির্দিষ্ট সীমানা বা সংরক্ষিত এলাকার মধ্যেই তাকে হিফাযত করা হয়েছে, সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ, এ নিয়ন্ত্রণ ও আবদ্ধতা কি তার স্বাধীনতা হরণ না তার যথার্থ মূল্যায়ন এ মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ?

আজ ইহুদী ও খ্রিস্টান জাতি মুসলমানদের ফ্যাক্টরী ধ্বংস করার জন্য। আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে, অনন্তর নারী জাতি হলো সে ফ্যাক্টরী, যার উদর থেকে আশরাফুল মাখলুকাত জন্মগ্রহণ করে। সুতরাং এর ন্যায় অতি মূল্যবান ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে জনসমক্ষে বল্গাহীনভাবে চলাচলে বারণ করা ও একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করতে বলা কি তার স্বাধীনতা হরণ, না এটি তার মর্যাদার যথার্থ মূল্যায়ন ও সযত্ন সংরক্ষণ?

আমার প্রাণপ্রিয় মা ও বোনেরা! ইসলাম ধর্ম আপনাদের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার্থে সদা তৎপর অথচ আপনি সে পাশ্চাত্যের বস্তাপঁচা সংস্কৃতি ও চালচলনকে মুক্তি ও উন্নতির সোপান মনে করে বসে আছেন? পশ্চিমে গিয়ে তো সূর্যও অন্ধকার হয়ে যায়, আলো হারিয়ে ফেলে, তাহলে আপনারা কেন পাশ্চাত্যের পিছনে আলো তালাশ করছেন? এটাকি রীতিমত বোকামী নয়? সর্বপ্রকার স্বাধীনতা ও অধিকার নারীজাতিকে কেবলমাত্র ইসলামই প্রদান করেছ।

কুরআন মাজীদে নারী জাতির মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সূরা নিসা’ অবতীর্ণ করা হয়েছে, অথচ পুরুষদের নামে পৃথক কোন সূরা গোটা কুরআন অনুসন্ধান করেও আপনি পাবেন না, উপরন্ত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, নারীর ওপর পুরুষের যতটুকু হক ও অধিকার রয়েছে, ঠিক নারীরও রয়েছে সে পরিমাণ অধিকার পুরুষের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2023
Theme Customized By BreakingNews
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com