1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. h.m.shahadat2010@gmail.com : Barisalerkhobor : Barisalerkhobor
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেলার প্রস্তুতিমূলক সভা ঝালকাঠি নলছিটিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ সদস্য কমিটি গঠন ২৮ পর্যটক নিয়ে বরিশালে ভারতের প্রমোদতরী গঙ্গাবিলাস সবাইকে নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস বিক্রি করতে হবে শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে আওয়ামী লীগ ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ২৫৬ জন এ+ পেয়ে মাদরাসা বোর্ডে শীর্ষে অবস্থান এবার নিজের নামে ফাউন্ডেশন খুলবো: হিরো আলম অভিনেত্রী শারমিন আঁখির অবস্থা শঙ্কামুক্ত : চিকিৎসক অভিনয় নয়, ‘সময় কাটানো’র প্রস্তাব অভিনেত্রীকে যে দৃশ্যে বুক কাঁপে

বরিশালে নদী খননকাজের নামে টাকা যাচ্ছে পানিতে!

  • Update Time : শনিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৬ Time View

 ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বাড়ছে নাব্য-সংকট। শীত মৌসুমে তা আরও বাড়ে। দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ কিলোমিটারেই রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথগুলোয় প্রতিনিয়ত আটকে যাচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ। নৌপথ সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চালালেও তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির পরিচালক সাইফুল ইসলাম পিন্টু বলেন, ড্রেজিংয়ের সময় উত্তোলনকৃত পলিবালি একশ থেকে দেড়শ মিটার দূরে নদীতেই ফেলা হচ্ছে। নদীতে না ফেলে অন্যত্র ফেললে বছর বছর এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, ‘আমরা লঞ্চমালিকরা নদীর বালি নদীতে না ফেলে নিকটবর্তী চরে ফেলার অনুরোধ করছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনে না। ড্রেজিং বিভাগ তাদের ইচ্ছেমাফিক কাজ করছে। খনন করা পলিবালি নদীতে ফেলার কারণে প্রতিদিন কী পরিমাণ অপসারণ করা হচ্ছে, তা-ও কেউ জানে না বা বলতে পারছে না। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও টেকসই ড্রেজিং হচ্ছে না। শুধু প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে।’ নিজাম শিপিংয়ের মালিক নিজামুল ইসলাম ঢাকা-বরিশাল নৌরুট বাঁচাতে পরিকল্পিত, টেকসই ড্রেজিং ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।

 

আবুল কালাম আজাদ নামে একজন মাস্টার বলেন, ‘বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে দৈনিক দুই-তিন ঘণ্টা ড্রেজিং করা হয়। এজন্য ড্রেজিং বিভাগের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যখন খুশি তখন ড্রেজিং শুরু করে তারা। টার্মিনাল এলাকা থেকে লঞ্চগুলোকে নদীর মাঝে এসে নোঙর করতে হয় এবং জাহাজ এসে পড়লে সরিয়ে নিতে হয়। প্রতিদিন হয়রানির শিকার হই। অথচ রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর টার্মিনাল এলাকা খালি পড়ে থাকে। রাতে দুই-তিন ঘণ্টা ড্রেজিংয়ের কাজ করলে আমাদের এ ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।’

বিভিন্ন লঞ্চের মাস্টাররা জানান, দক্ষিণাঞ্চলে বেশিরভাগ নৌরুটে রয়েছে নাব্য-সংকট। পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১২ মিটার পানি থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে এ পথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর আকার অনুযায়ী আট মিটার হলেও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো এলাকায় দুই-তিন মিটার পানি পাওয়া যায়। ফলে নির্ধারিত পথ বাদ দিয়ে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ উভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মাস্টাররা জানান।

ডুবচরে একাকার নৌপথ :

বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদীতে নাব্য-সংকট সবচেয়ে বেশি। শীত মৌসুমে জোয়ার-ভাটার সময় প্রায় প্রতিদিন কোনো-না কোনো স্থানে নৌযান আটকে যায়। এমভি সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের মাস্টার মো. মজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটের নলবুনি থেকে ভবনী পর্যন্ত দেড়-দুই কিলোমিটার, হিজলা থেকে বাবুগঞ্জ পযর্ন্ত তিন কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া থেকে শাওরা পর্যন্ত তিন কিলোমিটারে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবচর। এ ছাড়া বাউশিয়া-নলবুনিয়া চ্যানেল, বরিশালের শায়েস্তাবাদ সংলগ্ন কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁসহ তিন নদীর মোহনা এবং বরিশাল টার্মিনাল-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে নাব্য-সংকট চরম আকার নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে ভোলার ভেদুরিয়া ও বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাট ও মেহেন্দীগঞ্জের পাতারহাট লঞ্চঘাট-সংলগ্ন এলাকায়, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে নদীতে পানি কম থাকায় প্রায়ই লঞ্চগুলো আটকা পড়ে। বাকেরগঞ্জের কারখানা নদীসহ কবাই ও পটুয়াখালী লঞ্চঘাট-সংলগ্ন এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত গভীরতার চেয়ে অর্ধেকের কম পানি থাকে।

এমভি সুন্দরবন-১১ লঞ্চের মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, বরিশাল নদীবন্দর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি স্থান নাব্য-সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চরশিবলী, নলবুনিয়া, বামনির চর, হিজলা ও মল্লিকপুর চ্যানেলটি সহজ পথ হলেও বিভিন্ন স্থানে চর জেগে তা বন্ধ হয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত চ্যানেল মেঘনার উলানিয়া-কালীগঞ্জ হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব এলাকায় নৌ-চলাচলে বেগ পেতে হয়। মিয়ারচর চ্যানেলটি বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এ চ্যানেলটি বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত নৌপথ না হলেও সময় ও খরচ বেঁচে যাওয়ায় লঞ্চমালিক ও চালকদের কাছে বেশ প্রিয়।

 

পটুয়াখালী ও বরিশাল নদীবন্দর-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী, বরিশাল-ঢাকা রুটের মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া, ভাসানচর, মেঘনা নদীর হিজলার মিয়ারচর ও মেহেন্দীগঞ্জের কালীগঞ্জ, পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথের লোহালিয়া, কবাই ও কারখানা নদীর বেশ কয়েকটি চ্যানেল, বরিশাল-ভোলা নৌপথের লাহারহাট-ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা, বরগুনার খাকদন, বিষখালীসহ বিভিন্ন নদীতে পলিবালি জমে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

খনন পরিকল্পনা :

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মতিন সরকার জানান, নভেম্বর থেকে নাব্য-সংকট দেখা দেয়। সবচেয়ে সংকট দেখা দেয় ফেব্রুয়ারিতে। এ সময় নৌপথ সচল রাখতে ২০টির বেশি নদীর ৪৭টি এলাকায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পলিবালি ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ১২টি ড্রেজার কাজ করছে।

কী বলছে ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ :

ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ যথারীতি গা বাঁচানো বক্তব্য দিয়েছে। ড্রেজিংয়ের পলিবালি নদীর এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় রাখার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘স্থান না পাওয়ায় পলিবালি কেটে নদীর গভীরে এবং খরস্রোতা এলাকায় ফেলা হচ্ছে।’ তবে সেগুলো আবার খনন এলাকায় এসে ভরাট হওয়ার সুযোগ নেই বলে তার দাবি।

ড্রেজিংয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মতিন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পলিবালি অপসারণে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতে প্রতিদিনের হিসাব রাখা হচ্ছে। তারপরও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2023
Theme Customized By BreakingNews
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com