1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. h.m.shahadat2010@gmail.com : Barisalerkhobor : Barisalerkhobor
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

কথাসাহিত্যিক ড. শামসুদ্দীন আবুল কালাম স্মরণে

  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৫১ Time View

শেখ মুহাম্মাদ আবু জাফর

বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালির রাজধানী রোমের এক নির্জন এপার্টমেন্টে ইন্তেকাল করেন। আত্ম-অভিমানী এই মেধাবী বাঙালি ঔপন্যাসিক ১৯৫৯ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন রোমে। শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন বাখরগঞ্জ জেলার ঝালকাঠি মহকুমার (বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার) নলছিটি থানাধীন কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আকরাম আলী মুন্সি এবং মাতার নাম মেহেরুনেসা। তার ছিল চার বোন জাহানারা বেগম, রৌশোনারা বেগম, মমতাজ বেগম এবং সাইদা আখতার। তিনি ছিলেন তার পিতামাতার একমাত্র ছেলে।
শামসুদ্দীন আবুল কালাম বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪৩ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস করেন। এরপর তিনি এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পাঠ শেষ না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ১৯৫৯ সালে শামসুদ্দীন আবুল কালাম আলোকচিত্র, সেট ডিজাইন, সংগীত ও চলচ্চিত্র সম্পাদনা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইতালির রাজধানী রোম গমন করেন এবং সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠান সিনেসিত্তায় যোগ দেন। ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রী অর্জন করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইতালি থেকে জনমত সৃষ্টি করে অসামান্য অবদান রাখেন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে। ১৯৫৯ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত রোমে সুদীর্ঘ ৩৮ বছরের প্রবাস জীবনের শেষ দিনগুলোতে নিঃসঙ্গতা গ্রাস করলেও দেশটির কর্মক্ষেত্রে ছিল তাঁর সফল পদচারণা। সত্তরের দশকে কর্মরত ছিলেন রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) এর সদর দফতরে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসে। কাজ করেন ইতালিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও।
ইতালি যাওয়ার আগেই পঞ্চাশের দশকে প্রকাশিত হয় শামসুদ্দীন আবুল কালামের বেশ ক’টি বিখ্যাত উপন্যাস। স্বনামধন্য এই কথাসাহিত্যিকের সবচাইতে সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’র প্রকাশকাল ১৯৫৪ সাল। পরবর্তীতে পাঠকদের তৃষ্ণা মেটাতে আসে উপন্যাস দুই মহল (১৯৫৫), কাঞ্চনমালা (১৯৫৬), জীবন কান্ড (১৯৫৬), জাইজঙ্গল (১৯৭৮), মনের মতো স্থান (১৯৮৫), সমুদ্রবাসর (১৯৮৬), যার সাথে যার (১৯৮৬), নবান্ন (১৯৮৭) ও কাঞ্চনগ্রাম (১৯৮৭)। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বছর ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয় শামসুদ্দীন আবুল কালামের গল্প সংগ্রহ ‘অনেক দিনের আশা’। পরের বছর ‘ঢেউ’ ও ‘পথ জানা নেই’। দুই হৃদয়ের তীর (১৯৫৫) এবং সাহের বানু (১৯৫৭) এই বাঙালি গুণীজনেরই অমর সৃষ্টি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন।

মৃত্যুর পরে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে সমাহিত করা হয়েছে রোমের খৃষ্টান কবরস্থানে যদিও এর পাশেই ছিল মুসলিম কবরস্থান। মুসলিম কবরস্থানে তার লাশ স্থানান্তর অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
শেখ মুহাম্মাদ আবু জাফর
shekhabouzafor@yahoo.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2023
Theme Customized By BreakingNews
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com