1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. h.m.shahadat2010@gmail.com : editor :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৯ অপরাহ্ন

কলেজ আছে, হাসপাতাল নেই

  • Update Time : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩০ Time View

অনলাইন ডেস্কঃ

হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজের কথা কল্পনা করা যায় না। মেডিকেল কলেজ পরিচালনা আইন অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক।

অথচ দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ১৮টিরই নিজস্ব কোনো হাসপাতাল ভবন নেই। শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় চলে পাঠদান।

জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হাতেকলমে শিক্ষা নিতে হচ্ছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের। বস্তুত এসব কলেজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই যদি হয় সরকারি মেডিকেল শিক্ষার অবস্থা, তাহলে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষা কীভাবে চলছে তা সহজেই অনুমেয়। উল্লেখ্য, দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে ৭৩টি। বলার অপেক্ষা রাখে না, হাসপাতাল, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ ইত্যাদির বিবেচনায় এসব কলেজের অধিকাংশের অবস্থা আরও সঙ্গিন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।

কারণ এসবের সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার মানের প্রশ্ন জড়িত। হাসপাতাল, শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি থাকার অর্থ হলো এসব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছেন না। এতে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতা ছাড়াই তৈরি হচ্ছেন চিকিৎসক, যাদের ওপর নির্ভর করছে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান এবং দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতের ভালো-মন্দ। কাজেই বিষয়টি হেলাফেলার নয়।

বস্তুত হাতেগোনা বড় কয়েকটি মেডিকেল কলেজের কথা বাদ দিলে বলা যায়, দেশে মেডিকেল শিক্ষা চলছে একরকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সন্দেহ নেই, দেশে চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার এটি একটি বড় কারণ। তা সত্ত্বেও নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ থেমে নেই। প্রায় প্রতিবছর নতুন নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পাচ্ছে। জনসংখ্যার বিবেচনায় দেশে আরও চিকিৎসকের প্রয়োজন আছে অবশ্যই। তবে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাটা মানসম্পন্ন হওয়া জরুরি। তা না হলে তারা ভবিষ্যতে জনগণকে কী সেবা দেবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়।

মানসম্পন্ন মেডিকেল শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) শর্ত অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজের প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন প্রভাষক এবং ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক (সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক) থাকতে হবে। প্রতিবছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে এবং পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ চালু আছে এমন কলেজের জন্য কমপক্ষে ৭৭ জন শিক্ষক থাকা দরকার। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন করে শিক্ষার্থী থাকলে ওই মেডিকেল কলেজে শিক্ষক থাকতে হবে ১৫৪ জন।

অথচ বাস্তবতা হলো, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের মেডিকেল কলেজেই শিক্ষক সংকট প্রকট। এ ঘাটতি পূরণ তথা শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। সেই সঙ্গে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে নিজস্ব হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। দূর করতে হবে শিক্ষা উপকরণের সংকট। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাস এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিবেচনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে, এটাই কাম্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com