1. mohib.bsl@gmail.com : admin :
  2. barisalerkhobor@gmail.com : editor :
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের উচিত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করা : মেয়র সাদিক

  • Update Time : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ২১ Time View

সারাদেশের মতো বরিশাল মহানগরীসহ বিভাগের ৪৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়েছে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রম। রবিবার সকাল ১০টায় এক যোগে পৃথক পৃথকভাবে ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

তার উপস্থিতিতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন’র টিকা গ্রহণের মধ্যে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এর পর পরই শেবাচিম হাসপাতালের একটি মাত্র বুথে করোনার টিকা গ্রহণ করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এসএম সারওয়ার, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অসীত ভূষণ দাস, অর্থপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন। তাদের পরে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্সরা টিকা গ্রহণ করেন। এসময় বরিশাল সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে টিকা গ্রহণে সকলকে উৎসাহ প্রদান করেন।

একই সময় বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পুলিশ হাসপাতালে সর্বপ্রথম টিকা গ্রহণ করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম। এসময় জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
তাছাড়া বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. পীযুষ কান্তি দাস। এর বাইরে বরিশাল জেলা পর্যায়ে করোনার ভ্যাক্সিন প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। সেখানে সর্বপ্রথম ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন। এসময় সেখানে উপস্থিত থেকে টিকা গ্রহণে সকলকে উৎসাহ প্রদান করেন বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা।

ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রথমে চিকিৎসকরা টিকা নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আমরাও টিকা গ্রহণ করবো। কিছু লোক আছে যারা করোনার টিকা নিয়ে নেতিবাচক নানা গুজব-গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। তবে যাঁরা টিকা নিয়েছেন তারা বলছেন এতে কোন পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই। তাই ভয়কে জয় করে টিকা গ্রহণ করে করোনাকে জয় করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।

বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম টিকা গ্রহণ করা বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবার ভয় ভাঙিয়ে করোনার ভ্যাক্সিন গ্রহণে উৎসহ বাড়াতেই সর্বপ্রথম ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছি। আমার মতে ভ্যাকসিন গ্রহণে ভীতির কিছু নেই। জনগণকে ভ্যাকসিন নিয়ে সুরক্ষিত থেকে দেশ এবং দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর আহ্বান জানান তিনি।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রথম পর্যায় তিনটি কেন্দ্রে ১৭টি বুথ নিয়ে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে তিনটি কেন্দ্রের চারটি বুথে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতাল কেন্দ্রে ৮টি’র মধ্যে একটি, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ৮টি’র মধ্যে দুটি এবং বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে একটি।

সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, ‘প্রথম দিনে সিটি এলাকার তিনটি কেন্দ্রে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য ইতিপূর্বে ৪২৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যার মধ্যে শেবাচিম হাসপাতাল কেন্দ্রে ১৮১ জন, জেনারেল হাসপাতালে ১২১ জন ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্রে ১২৫ জন নিবন্ধিত রয়েছেন।

অপরদিকে, বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ‘বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলায় প্রথম দিনে টিকা গ্রহণের জন্য প্রায় সাড়ে ৪শ ব্যক্তি ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে টিকা প্রদানের বুথ থাকবে বলে জানানো হলেও প্রথম দিনে শুধুমাত্র ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে বুথ চালু করা হয়। তবে বরিশাল জেলাসহ বিভাগের কোন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন বুথ এখনো খোলা হয়নি।

বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘চাপ বুঝে কেন্দ্র এবং বুথ বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তাছাড়া যারা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে সক্ষম নন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার যেসব টিকাদান কেন্দ্র চালু হয়েছে সেখানে গিয়েও আগ্রহীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, ‘উদ্বোধনী দিনে বরিশাল বিভাগের মোট ৪২টি কেন্দ্রে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৬টি জেনারেল হাসপাতাল, একটি মেডিকেল কলেজ এবং দুটি পুলিশ হাসপাতালে টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রবিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা এবং একটি মহানগরীর নির্ধারিত ৪২টি কেন্দ্রে মোট এক হাজার ৪১২ জন করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। যারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন তারা সকলেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছেন। টিকা গ্রহণের পরে কেউ অসুস্থ বা কারোর মধ্যে ভিন্ন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের উচিত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করা। এ নিয়ে আতঙ্কের কোন কারণ নেই। বরং এটি গ্রহণ করলে নিজে এমনকি অন্যকেও করোনা থেকে রক্ষা করা যাবে। তাই গুজবে কান না দিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত অ্যাপ অথবা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করার আহ্বান জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Barisalerkhobor.
Theme Customized By BreakingNews